শেষ ১২ ঘণ্টায় সিকিমে ১২ বার ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গ — আতঙ্কে পর্যটকেরা!

6th February 2026 3:58 pm Country News
শেষ ১২ ঘণ্টায় সিকিমে ১২ বার ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গ — আতঙ্কে পর্যটকেরা!


পশ্চিম সিকিমের গ্যালশিং এলাকাকে কেন্দ্র করে একের পর এক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল সমগ্র সিকিম ও উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশ। ভূগর্ভের প্রায় ১০ কিলোমিটার নীচে ছিল মূল কম্পনের উৎসস্থল। কম্পনের প্রভাব অনুভূত হয় দার্জিলিং, কালিম্পং, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতেও। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ১২ বার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর মেলেনি।

শুক্রবার রাত ১টা ৯ মিনিট নাগাদ প্রথম ও তুলনামূলকভাবে জোরালো কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৪.৫। সিকিমের উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম জুড়ে এই কম্পন টের পাওয়া যায়। এর প্রভাব পড়ে পার্শ্ববর্তী অসম, নেপাল ও চিনের কিছু অংশেও। মধ্যরাতের এই কম্পনের পর পাহাড় থেকে সমতল— সর্বত্রই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর শুরু হয় মৃদু কিন্তু ঘনঘন আফটারশকের পালা। রাত ১টা ১৫ মিনিটে গ্যাংটক থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে ৩.১ মাত্রার কম্পন হয়। রাত ২টা ৩ মিনিটে মঙ্গনে ২.৫ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ২টা ২০ মিনিটে নামচিতে ৩.৯ মাত্রার কম্পন রেকর্ড করা হয়। ২টা ৪৩ মিনিটে একই এলাকায় আবার কম্পন হয়, যার উৎসস্থল ছিল প্রায় ৫ কিলোমিটার গভীরে এবং মাত্রা ছিল ২.৪।

এরপর ২টা ৫৬ ও ২টা ৫৯ মিনিটে মঙ্গনে পরপর দু’বার মৃদু কম্পন অনুভূত হয়, মাত্রা ছিল যথাক্রমে ২.৪ ও ২.৫। রাত ৩টা ১১ মিনিটে আবার তুলনামূলক জোরালো কম্পন হয়— মাত্রা ৪। ৩টা ৩৬ মিনিটে ২.৮ মাত্রার আরেকটি কম্পন রেকর্ড করা হয়। ভোরের দিকে ৩টা ৫২ মিনিট, ৪টা ৫৭ মিনিট এবং ৫টা ২৯ মিনিটেও নামচি-মঙ্গন এলাকায় একাধিক কম্পন অনুভূত হয়, যেগুলির উৎসস্থল ছিল প্রায় ৫ কিলোমিটার গভীরে।

সিকিম আবহাওয়া দফতরের ডিরেক্টর ড. গোপীনাথ রাহা জানান, প্রথম কম্পনটিই ছিল সবচেয়ে তীব্র। তার পরের কম্পনগুলি মূলত আফটারশক, যা সিকিমের বিভিন্ন প্রান্তে অনুভূত হয়েছে।

এদিকে এখন পর্যটনের ভরা মরসুম হওয়ায় সিকিমের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভিড় রয়েছে। ঘনঘন কম্পনের জেরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বহু পর্যটক। বিভিন্ন ট্যুর অপারেটরের কাছে ফোন করে পরিস্থিতির খোঁজ নিচ্ছেন তাঁরা। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল জানান, আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। প্রশাসন সর্বক্ষণ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।