ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তিবৃদ্ধি: নতুন যুদ্ধবিমান সংযোজনের মহাপরিকল্পনা

12th March 2025 11:57 am Country News
ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তিবৃদ্ধি: নতুন যুদ্ধবিমান সংযোজনের মহাপরিকল্পনা


ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তিবৃদ্ধি: নতুন যুদ্ধবিমানের বহর গঠনের পরিকল্পনা

ভারতীয় বায়ুসেনা আগামী ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যে বহরের কিছু পুরনো যুদ্ধবিমান অবসর নিতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ১১৪টি নতুন যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তি বহুগুণ বাড়াবে।

নতুন যুদ্ধবিমান সংযোজনের পরিকল্পনা

সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী ৪-৫ বছরের মধ্যে ভারতীয় বায়ুসেনা আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে যুদ্ধবিমান সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করবে। নতুন যুদ্ধবিমান সংযোজনের ফলে আগামী দশ বছর পর্যন্ত বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন শক্তি বজায় থাকবে। ২০৩৭ সালের মধ্যে ভারতীয় বায়ুসেনার ১০টি স্কোয়াড্রন অবসর নিতে চলেছে, যার মধ্যে জাগুয়ার, মিরাজ-২০০০ এবং মিগ-২৯ এর মতো শক্তিশালী যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের দিকে নজর

যেসব যুদ্ধবিমান প্রতিযোগিতার জন্য বিবেচিত হবে তার মধ্যে রয়েছে রাফাল, গ্রিপেন, ইউরোফাইটার টাইফুন, মিগ-৩১ এবং এফ-১৬। এই বিমানগুলি আগেও ভারতের ১২৬ যুদ্ধবিমান কেনার টেন্ডারে অংশ নিয়েছিল। পাশাপাশি, ভারতীয় বায়ুসেনা ২০৪৭ সালের মধ্যে নিজেদের স্কোয়াড্রন সংখ্যা ৬০-এ উন্নীত করতে চায়। ১১৪টি যুদ্ধবিমান কেনার পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তেজসের বিভিন্ন সংস্করণ, যেমন মার্ক-১এ ও মার্ক-২, ভারতীয় বায়ুসেনার অংশ হতে চলেছে।

প্রযুক্তির উন্নতি এবং প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধির পরিকল্পনা

বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে মাত্র ৩৬টি ৪.৫ জেনারেশন যুদ্ধবিমান রয়েছে, যা ফ্রান্স থেকে আমদানি করা রাফাল বিমান। ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা শক্তি আরও দৃঢ় করতে ভারত পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভারতীয় বায়ুসেনার আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে এবং যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হবে।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।