৭ জানুয়ারি ২০২৫, সকাল ৬:৩৫ (স্থানীয় সময়) সময়ে তিব্বতের শিজ্যাং এলাকায় একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যা পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতের বিভিন্ন অংশ, নেপাল, চীন, বাংলাদেশ, এবং ভুটানেও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.১, এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল নেপালের সীমান্তবর্তী একটি এলাকা, যা সিকিমের গ্যাংটক থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে। ভূমিকম্পের প্রভাব এতই তীব্র ছিল যে, গোটা পশ্চিমবঙ্গ, কলকাতা, বিহার এবং উত্তর-পূর্ব ভারত সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে এটি অনুভূত হয়েছে। এছাড়াও, বাংলাদেশ, ভুটান, এবং চীনেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের ফলে এখনও পর্যন্ত ৩২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, এবং অন্তত ৩৮ জন আহত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিকিম, বিহার, এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অংশেও ভূমিকম্পের প্রভাব ব্যাপকভাবে অনুভূত হয়েছে। এর ফলে, ওইসব এলাকায় বেশ কিছু বাড়ি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং সড়ক যোগাযোগও ভেঙে পড়েছে। আফটারশকগুলিও বেশ শক্তিশালী ছিল, যার ফলে ভূমিকম্পের প্রভাব আরও বাড়ে। মূল কম্পনের পর মোট ৫টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে, যেগুলোর মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৪.৭, ৪.৯, ৫.০, ৪.৯, এবং ৪.৮।
ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল তিব্বতের ১০ কিলোমিটার গভীরে, যা এই ভূমিকম্পকে আরও তীব্র ও বিপজ্জনক করে তুলেছিল। ভূতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন যে, এই অঞ্চলের ভূমিকম্পপ্রবণতা দীর্ঘদিনের। বিশেষত, হিমালয়ের এই অংশে ভারতীয় এবং ইউরেশিয়ান টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষ ঘটে, যার কারণে এখানে প্রায়ই বড় ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে। এর ফলে, এ ধরনের ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত এবং ব্যাপকভাবে অঞ্চলগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
বিশেষভাবে, এই ভূমিকম্পের প্রভাব ছিল নেপাল, তিব্বত, এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের উপর। তিব্বতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ এই অঞ্চলটি অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ। ভূমিকম্পের কারণ হিসেবে এই অঞ্চলে ভারতীয় এবং ইউরেশিয়ান টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষের ফলে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়, যা ভূমিকম্পের সৃষ্টি করে। এছাড়া, নেপালের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল হওয়ায় নেপালে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, সারা বিশ্বে ভূমিকম্পের ঘটনা নিয়ে সতর্কতা তৈরি হয়েছে, এবং বিশেষজ্ঞরা আগাম সতর্কতা প্রদান করছেন। ভারতের ভূতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, এই অঞ্চলে ভবিষ্যতে আরও ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে, যা ওই অঞ্চলের মানুষের জন্য মারাত্মক হতে পারে।
এখন পর্যন্ত চলমান উদ্ধার কাজগুলি তীব্রভাবে চলছে, এবং বিভিন্ন উদ্ধারকারী দলগুলোর পক্ষ থেকে আশেপাশের এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে।