মহিলা সম্মান যোজনা: দিল্লির মহিলারা পাবেন প্রতি মাসে ২১০০ টাকা, ভোটের আগে বড় ঘোষণা
দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রাক্তন দিল্লি মুখ্যমন্ত্রী এবং আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরীবাল একটি নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করেছেন যা রাজধানীর মহিলাদের ক্ষমতায়ন করবে — মহিলা সম্মান যোজনা। পশ্চিমবঙ্গ, মধ্য প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড এবং মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যে মহিলাদের কল্যাণমূলক প্রকল্পের সফলতার পরিপ্রেক্ষিতে এই ঘোষণা করা হয়েছে, যা শাসক দলগুলির জন্য রাজনৈতিকভাবে উপকারী প্রমাণিত হয়েছে।
মহিলা সম্মান যোজনার মূল বৈশিষ্ট্য
মহিলা সম্মান যোজনা অনুসারে দিল্লির মহিলাদের প্রতি মাসে ১০০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ্মী ভাণ্ডার যোজনার অনুপ্রেরণায় এই প্রকল্পটি মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। অরবিন্দ কেজরীবাল তার ঘোষণায় পরিষ্কার করেছেন যে, এই উদ্যোগটি আসন্ন দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, কারণ এটি মহিলাদের ভোটারের মধ্যে ক্ষমতায়নের অনুভূতি তৈরি করতে সহায়ক হবে।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। যদি আপ সরকার ২০২৫ সালের নির্বাচনে আবার ক্ষমতায় আসে, তবে এই ভাতা বাড়িয়ে ২১০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কেজরীবাল, যা মহিলাদের মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার খরচের চাপ মোকাবিলা করতে সাহায্য করবে।
প্রকল্পটির রাজনৈতিক পটভূমি
অরবিন্দ কেজরীবাল এ ব্যাপারে কোনও গোপনীয়তা রাখেননি যে, তিনি অন্যান্য রাজ্যে সফল যোজনাগুলির মতন দিল্লিতেও একটি জনপ্রিয় প্রকল্প চালু করতে চান। পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ্মী ভাণ্ডার প্রকল্পের মতো, এই প্রকল্পটি মহিলাদের কাছে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিয়ে ভোটের সময় তাদের সমর্থন লাভ করতে সহায়ক হতে পারে। কেজরীবাল, যিনি সম্প্রতি কিছু বিতর্ক এবং আইনি সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন, এই প্রকল্পটিকে দিল্লির নির্বাচনে তার দলকে জেতানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে দেখতে পাচ্ছেন।
তবে, কেজরীবাল স্পষ্ট করেছেন যে, এই প্রকল্পের টাকা এখনই মহিলাদের হাতে পৌঁছাবে না। দিল্লি কেবিনেট ইতিমধ্যে মহিলা সম্মান যোজনা অনুমোদন করেছে, তবে ভোটের আগে নির্বাচনের ঘোষণা হওয়া এবং নতুন সরকার গঠিত হওয়ার আগে এই ভাতা দেওয়া সম্ভব হবে না। কেজরীবাল বলেছেন, “আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাবে, তাই এখনই এই টাকা ট্রান্সফার করা সম্ভব নয়। তবে আমরা যদি আবার ক্ষমতায় আসি, ২১০০ টাকা করে দেব।”
এই টাকা কোথা থেকে আসবে? কেজরীবালের আত্মবিশ্বাস
এমন populist প্রকল্পগুলি নিয়ে সাধারণত প্রশ্ন ওঠে, টাকা আসবে কোথা থেকে? কেজরীবাল, তবে, তার আর্থিক পরিচালনার দক্ষতার ব্যাপারে পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী। তিনি তার পূর্ববর্তী প্রকল্পগুলির উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, “আমি ম্যাজিশিয়ান, আমি অ্যাকাউন্টের ম্যাজিশিয়ান। আমি জানি কোথা থেকে টাকা জোগাড় করতে হয়, কীভাবে খরচ করতে হয়।” কেজরীবাল আরও বললেন, “যখন আমি প্রথম বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা বলেছিলাম, তখন সবাই বলেছিল সরকারে এত তহবিল নেই। কিন্তু আমরা সেটা করে দেখিয়েছি... আমি যা বলি, তা করেই দেখাই।”
ভবিষ্যৎ: মহিলা সম্মান যোজনা কি ভোট জিততে সাহায্য করবে?
যেহেতু দিল্লি ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তাই অরবিন্দ কেজরীবাল এবং আপ-এর এই পদক্ষেপ একটি বড় ভূমিকা নিতে পারে। মহিলা সম্মান যোজনা মহিলাদের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে, যা তাদের মধ্যে বড় আস্থা সৃষ্টি করতে পারে। কেজরীবাল নিশ্চিত যে, এই প্রকল্পটি দিল্লির মহিলাদের মধ্যে সমর্থন লাভ করবে এবং নির্বাচনে তা তাদের জন্য লাভজনক হবে।
এখন, যেহেতু শুক্রবার থেকেই রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হবে, দিল্লির মহিলাদের কাছে কেজরীবাল এই প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি কতটা কার্যকরী তা দেখানো এখন বাকী।