কেন পাইস হোটেলে কলাপাতায় খাবার পরিবেশন করা হয়? এর সঙ্গে কি স্বাস্থ্যের কোনও যোগ আছে?

24th September 2024 7:45 pm Country News
কেন পাইস হোটেলে কলাপাতায় খাবার পরিবেশন করা হয়? এর সঙ্গে কি স্বাস্থ্যের কোনও যোগ আছে?


আগেকার দিনে পুজোবাড়ি হোক বা বিয়েবাড়ি অনুষ্ঠান— যে কোনও উৎসব-অনুষ্ঠানেই কলাপাতায় খাওয়ার রেওয়াজ ছিল। পুজোর কাজে কলাপাতার ব্যবহারও বহু পুরনো। তবে শুধু এ রাজ্যে নয়, দক্ষিণীরাও বিভিন্ন উৎসবে কলাপাতায় খাবার পরিবেশন করে থাকেন। এই অভ্যাস পরিবেশবান্ধবও বটে। কলকাতার পাইস হোটেলে বরাবরই কলাপাতায় খাবার পরিবেশনের রেওয়াজ। ইদানীং বিভিন্ন বাঙালি রেস্তরাঁতেও কলাপাতায় খাবার দিতে দেখা যায়। শুধু দেখতে ভাল লাগে বলেই কি কলাপাতায় খাবার পরিবেশন করা হয়? না কি এর সঙ্গে স্বাস্থ্যেরও যোগ রয়েছে?

১) রীতি, ঐতিহ্য এবং পরিবেশ রক্ষা ছাড়াও কলাপাতায় খাওয়ার বেশ কিছু স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে। কাচ, স্টিল বা প্লাস্টিকের প্লেট ভাল ভাবে পরিষ্কার না করলে সেখান থেকে খাবারে ব্যাক্টেরিয়া বা ভাইরাস ছড়াতে পারে। কিন্তু কলাপাতায় খেলে সেই সম্ভাবনা ক্ষীণ। এ ছাড়াও কলাপাতার অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল গুণ খাবারে যদি কোনও ক্ষতিকারক ব্যাক্টেরিয়া থাকে, তা-ও ধ্বংস করতে সাহায্য করে।

 

২) তা ছাড়া কলাপাতায় ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রয়েছে। পাতার উপর গরম খাবার রাখলে খাবারের পুষ্টিগুণ নষ্ট তো হয় না, বরং তার স্বাদ বৃদ্ধি পায়।

৩) অনেকেরই ধারণা কলাপাতার সংস্পর্শে গরম খাবার এলে, তার স্বাদ এবং গন্ধ নাকি পাল্টে যায়। সাধারণ খাবারও নাকি হয়ে ওঠে অমৃতসমান। এ ছাড়া কলাপাতায় খাবার খেলে হজমশক্তিও বাড়ে। কলাপাতায় উপস্থিত পলিফেনল শরীরে হজমে সাহায্যকারী উৎসেচকগলির ক্ষরণ বৃদ্ধি করে।

 

৪) প্লাস্টিক বা থার্মোকলের প্লেট পরিবেশের জন্য আবর্জনা ছাড়া আর কিছুই নয়। এই ধরনের আবর্জনা মাটি বা জলের সঙ্গে মিশলে তা পরিবেশের তো বটেই, প্রাণীজগতের জন্যেও ভাল নয়। সেই দিক থেকে কলাপাতা ব্যবহার করা নিরাপদ।

 

৫) থার্মোকল বা প্লাস্টিকের প্লেটে গরম খাবার রাখলে তা থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়া হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু কলাপাতায় দীর্ঘ ক্ষণ গরম খাবার রেখে দিলেও এই ধরনের ভয় থাকে না।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।