সামান্থা থেকে বিরাট, সকলেই বরফগলা জলে ডুব দিচ্ছেন, এমন জলে স্নান করলে কী উপকার মেলে?

4th April 2024 1:21 pm Country News
সামান্থা থেকে বিরাট, সকলেই বরফগলা জলে ডুব দিচ্ছেন, এমন জলে স্নান করলে কী উপকার মেলে?


সমাজমাধ্যমে চোখ রাখলেই দেখা যাচ্ছে তারকাদের ‘আইস ওয়াটার বাথ’ নেওয়ার ছবি। সে ক্রিকেট হোক বা রুপোলি পর্দা— সব ক্ষেত্রের তারকারাই ডুব দিচ্ছেন কনকনে ঠান্ডা জলে। হলিউডে কিম কার্দাশিয়ান থেকে কেট মিডলটন, বলিউডে রকুল প্রীত থেকে বিদ্যুৎ জামওয়াল— সকলেই ডুব দিচ্ছেন বরফগলা জলে। সম্প্রতি বিরাট কোহলিকেও দেখা গিয়েছে বরফজলে স্নান করতে। দক্ষিণী অভিনেত্রী সমান্থা রুথ প্রভুও বাদ যাননি তালিকা থেকে। চিকিৎসকেরা বলছেন, ‘আইস ওয়াটার বাথ’ বা বরফজলে স্নান আসলে এক ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি, যা ‘ক্রায়োথেরাপি’ নামে পরিচিত।

 

কী ভাবে করতে হয় এই থেরাপি?

 

বাথটবে জলের তাপমাত্রা রাখতে হয় প্রায় ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৫০ থেকে ৫৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট)। সেই জলের মধ্যে গোটা শরীর ডুবিয়ে বসে থাকতে হয় প্রায় মিনিট পনেরো।

 

কনকনে বরফজলে স্নান করলে কী উপকার মেলে?

 

ফিটনেসবিদদের মতে, ‘ক্রায়োথেরাপি’ বিপাকহার বাড়িয়ে ওজন ঝরাতে সাহায্য করে। এই থেরাপির সময় শরীর গরম করার জন্য শরীরের আনাচকানাচে জমে থাকা মেদ গলতে শুরু করে। শরীরচর্চা করার পর ক্রায়োথেরাপি করলে কাজ হয় দ্রুত। ক্রীড়াবিদদের মধ্যে এই থেরাপির জনপ্রিয়তা বেশি

 

১) প্রদাহনাশ করে

 

শরীরচর্চা করেই হোক বা অন্য যে কোনও কারণে, দেহে প্রদাহ হলে, তা নির্মূল করতে পারে এই কনকনে ঠান্ডা জল।

 

২) পেশির ব্যথা কমে

 

শরীরচর্চা করার পর পেশিতে ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক। সমান্থার পেশি সংক্রান্ত অসুস্থতার ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি। পেশির এই ব্যথা নিরাময় করতে পারে বরফগলা জল। ক্রিকেট প্র্যাকটিস করার পর পেশির ব্যথায় আরাম পেতে বিরাটও তাই হয়তো এই থেরাপির শরণ নিয়েছেন।

 

৩) রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে

 

বরফগলা জল দেহে সঠিক ভাবে রক্ত সঞ্চালন করতে সাহায্য করে। রক্ত সঞ্চালন ভাল হলে দেহের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পৌঁছে যায় সহজেই।

৪) মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করে

 

পেশাগত এবং ব্যক্তিগত জীবনের চাপ সামাল দিতেই কি সমান্থা এমন কনকনে জলে স্নান করছেন? চিকিৎসকেরা বলছেন, এমন ঠান্ডা জলে স্নান করলে এক ধরনের হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে, যা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

 

৫) আঘাত নিরাময় করে

 

শরীরের কোনও জায়গায় আঘাত লাগলে সেখানে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। বরফগলা জল সেই আঘাত নিরাময়েও সাহায্য করে।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।