হাড়ের জোর বাড়িয়ে তুলতে ক্যালশিয়াম সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধের বিকল্প হতে পারে ৫ খাবার

22nd March 2024 5:19 pm Country News
হাড়ের জোর বাড়িয়ে তুলতে ক্যালশিয়াম সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধের বিকল্প হতে পারে ৫ খাবার


এখন আর পা, কোমরের যন্ত্রণা শুরু হতে বয়সের অপেক্ষা করতে হয় না। একটু বেশি হাঁটাহাঁটি করলে, কায়িক পরিশ্রম করলেই পায়ের যন্ত্রণা শুরু হয়। সব ব্যথা যে আর্থ্রাইটিস বা বাত, তা নয়। তবে শরীরে ক্যালশিয়ামের অভাব হলে যে কোনও বয়সেই হাড়ের সমস্যা হতে পারে। তাই হাড়ের গঠন, ঘনত্ব ঠিক রাখতে ক্যালশিয়ামের ঘাটতি থাকা চলবে না। পাশাপাশি, হাড় মজবুত রাখতে ভিটামিন এ, কে, ই, এবং ডি-এর মতো উপাদানগুলিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। তাই হাড়ের কোনও সমস্যা হলেই ক্যালশিয়ামের ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট খেয়ে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। তবে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা কিন্তু ক্যালশিয়ামের ওষুধকে খুব একটা সমর্থন করে না। বরং চিকিৎসকেরা বলেন, বেশি ওষুধ খেলে তা কিডনিতে গিয়ে জমা হয়। দীর্ঘ দিন জমতে জমতে তা পাথরে পরিণত হয়। তাই হাড়ের সমস্যা রুখতে ওষুধ নয়, পাতে থাকুক ক্যালশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার।

কোন কোন খাবারে ক্যালশিয়ামের পরিমাণ বেশি?

 

১) দুগ্ধজাত খাবার:

ক্যালশিয়ামের অন্যতম উৎস হল দুধ। এক কাপ মাঠাযুক্ত দুধে প্রায় ২৭০ মিলিগ্রাম ক্যালশিয়াম পাওয়া যায়। সঙ্গে উপরি পাওনা ভিটামিন ডি এবং এ। সয়াবিন থেকে যে দুধ পাওয়া যায়, সেই এক কাপ দুধে ক্যালশিয়ামের পরিমাণ প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম। যাঁদের দুধ হজম করতে সমস্যা হয় তাঁরা সয়া মিল্ক, আমন্ড মিল্ক বা নারকেলের দুধ খেতে পারেন। দুধ একেবারেই সহ্য না হলে দই খাওয়া যেতে পারে। দইয়ের মধ্যে রয়েছে ল্যাক্টোব্যাসিলাস। তাই দই খেলে পেটের সমস্যা হয় না।

 

২) শাকপাতা:

 

পালং শাক, সর্ষে শাক, নটেশাক এবং কালের মতো শাকপাতাও ক্যালশিয়ামের উৎস। এ ছাড়া এই সমস্ত শাকে রয়েছে ভিটামিন কে, ম্যাগনেশিয়াম এবং ফাইবার। হাড়ের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে নিয়মিত এই শাক পাতে রাখতে হবে।

 

৩) তিল:

 

তিলের মধ্যেও যথেষ্ট পরিমাণে ক্যালশিয়াম রয়েছে। পুষ্টিবিদেরা বলছেন, নিয়মিত যদি ১ টেবিল চামচ তিলের বীজ খাওয়া যায়, তা হলেই শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালশিয়াম পৌঁছে যায়। ক্যালশিয়াম ছাড়াও তিলের মধ্যে রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন এবং জ়িঙ্কের মতো খনিজ।

 

৪) কাঠবাদাম:

 

অল্প খিদের জন্য স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্‌স হল কাঠবাদাম। তা ছাড়াও ক্যালশিয়ামের প্রাকৃতিক উৎস হল এই বাদাম। তা ছাড়া কাঠবাদাম ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন ই এবং প্রোটিনের চাহিদাও পূরণ করতে পারে।

৫) ডাল:

 

নানা ধরনের ডাল— যেমন রাজমা, সয়াবিন, ছোলা, মুগ, মটর, মুসুর ক্যালশিয়ামের খুব ভাল উৎস। এক কাপ রান্না করা মুগ ডালে ক্যালশিয়ামের পরিমাণ প্রায় ২৭০ মিলিগ্রাম। তাই অন্যান্য খাবারের সঙ্গে রোজকার পাতে ডাল রাখা জরুরি।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।