কেন খেজুর খেয়েই রোজ়া ভাঙা হয়? শুধু কি রীতি, না কি নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ আছে?

16th March 2024 10:19 pm Country News
কেন খেজুর খেয়েই রোজ়া ভাঙা হয়? শুধু কি রীতি, না কি নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ আছে?


রমজান মাস চলছে। সারা দিন উপোস করে সূর্যাস্তের পর কিছু মুখে দেওয়া— রমজান মাসের এটাই রেওয়াজ। যুগ যুগ ধরে দেশে দেশে রমজানের ইফতারে খেজুর খাওয়ার রীতি। কেন সবাই খেজুর খান উপোস ভাঙার সময়? শুধুই ধর্মীয় বিশ্বাস, না কি এর রয়েছে কিছু স্বাস্থ্যকর দিকও?

অনেকেই মনে করেন, খেজুর হল মুসলিমদের ধর্মগুরু হজরত মহম্মদের প্রিয় ফল। তিনি সব সময়ে রোজ়া ভাঙতেন খেজুর দিয়েই। আর সে কারণে খেজুর খেয়েই রোজ়া ভাঙার রীতি চালু হয়েছে মুসলিমদের মধ্যে। অন্য দিকে, সারা দিন উপোসের পর এমন কিছু খাওয়া জরুরি, যা কম সময়ে জোগাবে কর্মশক্তি। তার জন্য খেজুর খুব উপযোগী একটি খাদ্য। পাশাপাশি, খেজুরে রয়েছে আরও নানা গুণ। জেনে নিন কেন রোজ়ার সময়ে খেজুর খাওয়া এত উপকারী।

 

১) খেজুর হজমশক্তি বৃদ্ধি করে। সারা দিন না খাওয়ার পর সন্ধ্যায় ইফতারে ভালমন্দ খাওয়ার চল রয়েছে। বিশেষ করে নানা ধরনের ফল এবং ভাজাভুজি খান অনেকে। খেজুর সে সব খাবার হজম করতে সাহায্য করে।

২) খেজুরে রয়েছে পুষ্টির নানা উপাদান। বিশেষ করে টানা উপোসের সময়ে শরীরের ফাইবার প্রয়োজন। খেজুর তা জোগাতে পারে।

৩) রোজা মানেই সারা দিন কিছু না খেয়ে থাকা। কিন্তু দিনের কাজ তো চালিয়ে যেতে হয়। তার জন্য শরীর সচল রাখতে হবে। খেজুরে রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, ভিটামিন। এই তিনটি উপাদান শরীর সচল রাখে।

 

৪) খেজুরে উপস্থিত রয়েছে ক্ষারীয় লবণ। তা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পরিমিত মাত্রায় খেলে নিয়ন্ত্রণ করে রক্তে শর্করার মাত্রাও।

 

৫) খেজুরে ভাল মাত্রায় জল থাকে। উপোস করার পর শরীরে জলের ঘাটতি হয়, এই সমস্যা দূর করতে খেজুর খাওয়া স্বাস্থ্যকর।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।