৩৮ বছর বয়সে মা হচ্ছেন দীপিকা! বেশি বয়সে মা হতে চাইলে কী ধরনের সতর্কতা নেওয়া জরুরি?

21st February 2024 8:06 pm Country News
৩৮ বছর বয়সে মা হচ্ছেন দীপিকা! বেশি বয়সে মা হতে চাইলে কী ধরনের সতর্কতা নেওয়া জরুরি?


মা হতে চলেছেন অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন। ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডের (বাফটা) মঞ্চে মোহময়ী রূপে ধরা দিয়েছিলেন দীপিকা। বাফটার মঞ্চে ৩৮ বছর বয়সি দীপিকাকে দেখেই চর্চা শুরু হয়েছে তাঁর অন্তঃসত্ত্বা হওয়া নিয়ে। শোনা যাচ্ছে, এ বছর বর্ষার মধ্যেই ভূমিষ্ঠ হবে দীপিকা ও রণবীর সিংহের প্রথম সন্তান। গত বছর এক সাক্ষাৎকারে দীপিকা বলেছিলেন, ‘‘রণবীর আর আমি বাচ্চাদের খুব ভালবাসি। আমরা অপেক্ষা করছি যে দিন আমরা নিজেদের পরিবারে নতুন অতিথিকে নিয়ে আসতে পারব।’’

অনেক মহিলাই এখন বেশি বয়সে নিজের কর্মক্ষেত্রে একটি ভাল জায়গায় পৌঁছনোর পরেই মা হওয়া সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। চাইলেন আর মা হয়ে গেলেন, ব্যাপারটা কিন্তু অত সহজ নয়। আসলে ৩০-এর পর থেকে মেয়েদের শরীরে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণমান কমতে থাকে। ৩৫-এর পর প্রেগন্যান্সির সম্ভাবনা দ্রুত কমে যেতে থাকে। অন্তঃসত্ত্বা হলেও হরমোনের গোলমালের জন্য গর্ভপাতের সম্ভাবনা বাড়ে। আবার ডিম্বাণুর গুণমান ভাল না হলে বাচ্চা বিকলাঙ্গ হতে পারে। বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে মায়ের স্বাস্থ্যও। তাই বেশি বয়সে সন্তানধারণের পরিকল্পনা করলে মাথায় রেখে চলতে হবে কি‌ছু জরুরি বিষয়।

 

১) মা হওয়ার পরিকল্পনা করার সময়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে ‘প্রি প্রেগন্যান্সি কাউন্সেলিং’ করাতে পারেন। এ ক্ষেত্রে হবু সন্তান ও মায়ের অসুস্থ হয়ে পড়া ও অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি কমে যায়।

২) সকলের গর্ভাবস্থা এক রকম হয় না। শারীরিক অবস্থা যাচাই করেই চিকিৎসক ওষুধ দেন। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও রকম ওষুধ একেবারেই খাওয়া উচিত নয়।

৩) অনেক সময়ে হবু মায়ের ডায়াবিটিস বা থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে সাধারণ পরীক্ষা অর্থাৎ ফাস্টিং বা পিপি সুগার পরীক্ষা করিয়ে ধরা না-ও যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে এইচবিএ১সি টেস্ট ও গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট করা প্রয়োজন।

 

৪) থাইরয়েডের অসুবিধে থাকলেও অনেক সময়ে ভ্রূণ স্বাভাবিক ভাবে বাড়তে পারে না। টিথ্রি, টিফোর, টিএসএইচ পরীক্ষার পাশাপাশি অ্যান্টি টিজি অ্যান্টিবডি ও টিপিও পরীক্ষা করানো দরকার। এর সাহায্যে থাইরয়েড হরমোনের তারতম্য জেনে নিয়ে ওষুধ খাওয়া দরকার।

 

৫) হবু মায়ের রক্তের জমাট বাঁধার সমস্যা থাকলেও গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ে। তাই এ ক্ষেত্রেও বিশেষ কিছু ওষুধ খাওয়া জরুরি। তাই মধ্য তিরিশে যাঁরা মা হতে চান তাঁদের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে এগোনো উচিত।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।