কাশি, শ্বাসকষ্ট বারোমাসের সঙ্গী! আবহাওয়া পরিবর্তন, না কি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কিছু কারন?

20th February 2024 11:34 pm Country News
কাশি, শ্বাসকষ্ট বারোমাসের সঙ্গী! আবহাওয়া পরিবর্তন, না কি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কিছু কারন?


গরম থেকে ঠান্ডা, আবার ঠান্ডা থেকে গরম। আবহাওয়ার পরিবর্তনে খুসখুসে কাশি, অ্যালার্জিজনিত সর্দি বা জ্বরে আক্রান্ত হন অনেকেই। এই সময়ে বাতাসে নানা রকম ভাইরাসের আনাগোনা বেড়ে যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে রোগের প্রকোপ বাড়ে। তবে এই ধরনের সমস্যা সারা বছর ধরে চলার কথা নয়। সাম্প্রতিক একটি গবেষণা বলছে, খুসখুসে কাশি, সর্দিজ্বর এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যা বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে ভারতীয়দের ফুসফুসে। ভেলোরের ক্রিশ্চান মেডিক্যাল কলেজের গবেষকেরা এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, ফুসফুস সংক্রান্ত সমস্যায় চিনা এবং ইউরোপীয়দের চেয়ে কয়েক গুণে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন ভারতীয়রা। কারও কারও ফুসফুস এমন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, তা আর কোনও দিন স্বাভাবিক হওয়ার নয়।

তবে, কোভিড সেরে যাওয়ার মাস দুয়েক পর ফুসফুসের কার্যক্ষমতা এবং বেশ কিছু রক্ত পরীক্ষা করার পর নানা ধরনের সমস্যা ধরা পড়েছে। যা চিকিৎসকদের কাছেও বেশ চিন্তার। দেখা গিয়েছে, বাতাস থেকে অক্সিজেন নিয়ে তা রক্তবাহিকার মধ্যে স্থানান্তরিত করার ক্ষমতা কমেছে প্রায় ৪৪ শতাংশ মানুষের। শ্বাসযন্ত্র বা ফুসফুস সংক্রান্ত সমস্যা দেখা গিয়েছে ৩৫ শতাংশের মধ্যে। শ্বাস নেওয়া এবং ছাড়ার যে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, তা-ও ব্যাহত হয়েছে ৮.৩ শতাংশ মানুষের। কোভিড থেকে সেরে ওঠার পরেও ভারতীয়দের মধ্যে এর প্রকোপ দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণ হল কোমর্বিডিটি। যা ইউরোপীয় এবং চিনাদের মধ্যে অনেকটাই কম। বেশির ভাগ ভারতীয়ই উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবিটিসের মতো রোগে আক্রান্ত। আর এই কারণেই অন্যান্যদের তুলনায় ভারতীয়দের শ্বাসযন্ত্র বা ফুসফুস সংক্রান্ত সমস্যা জটিল রূপ নিচ্ছে বলে মনে করছেন ক্রিশ্চান মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক ডিজে ক্রিস্টোফার।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।