ধূমপানের অভ্যাস নেই, তবুও কালচে হয়ে যাচ্ছে ঠোঁট, পিছনে লুকিয়ে কোন বিপদের ইঙ্গিত?

5th February 2024 12:13 pm Country News
ধূমপানের অভ্যাস নেই, তবুও কালচে হয়ে যাচ্ছে ঠোঁট, পিছনে লুকিয়ে কোন বিপদের ইঙ্গিত?


সৌন্দর্যের বর্ণনা করতে গিয়ে অনেক সময়ই উঠে আসে ঠোঁটের প্রসঙ্গ। ঠোঁট নিয়ে লেখা হয়েছে কত প্রেমের পদ্য, কত গান। ত্বকের পরিচর্যা নিয়ে আমরা সচেতন থাকলেও ঠোঁটের প্রতি আমাদের অবহেলার অন্ত নেই। তাই ঠোঁটের রং বদলে গেলেও অনেকেরই সেই নিয়ে কোনও মাথা ব্যথা থাকে না। অথচ সামান্য এই রংবদল ডেকে আনতে পারে বিপদের ঝুঁকি। ঠোঁট কালো হয়ে যাওয়ার পিছনে অন্যতম বড় কারণ হল ধূমপান। নিকোটিন এবং বেনজোপাইরিন ত্বকের মেলানিন উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে কালো হয়ে যেতে পারে ঠোঁট। এ বিষয়ে সতর্ক আর ক’জনই বা হয়ে থাকেন! কিন্তু আরও নানা কারণে ঠোঁটের রং কালো হয়ে যেতে পারে। জেনে নিন, ঠোঁট কালো হয়ে যাওয়ার পিছনে আর কোন কোন কারণ দায়ী হতে পারে।

১) অ্যাডিসনস ডিজিজ়: এই রোগের প্রভাবে হাইপার পিগমেন্টেশন ঘটতে পারে। যা কালো করে দেয় ঠোঁটের রং। এই রোগের প্রভাবে শরীরের অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে কর্টিসোল এবং অ্যালডোস্টেরন নামক হরমোনের ক্ষরণ কমে যায়। যার ফলে দেহের বিভিন্ন অংশ কালো হয়ে আসতে পারে। বাদ পড়ে না ঠোঁটও।

 

২) ক্যানসার: ঠোঁটের কালো দাগ ক্যানসারের উপসর্গও হতে পারে। বিশেষত যদি এই দাগ ক্রমশ বৃদ্ধি পায়, সংশ্লিষ্ট স্থানে রক্তপাত হয় এবং ক্রমশ ক্ষতের চেহারা নিতে থাকে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। মেলানোমা নামক ক্যানসারের লক্ষণ এটি।

৩) সায়ানোসিস: ঠোঁট নীলচে হয়ে এলে এবং তার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এটি সায়ানোসিসের লক্ষণ হতে পারে। রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গেলে এই সমস্যা দেখা দেয়। 

উপরের কারণগুলি ছাড়াও বিভিন্ন কারণে গোলাপি ঠোঁট কালচে হয়ে যেতে পারে। সন্তানধারণের পর মায়েদের শরীরে হরমোনাল বদল আসে সেই কারণেও অনেকের ঠোঁট কালচে হতে শুরু করে। এ ছাড়া বিশেষ কোনও ওষুধের প্রভাবে ও সূর্যের অতিবেগনি রশ্মির প্রভাবেও বদলে যেতে পারে ঠোঁটের রং।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।