ঠান্ডায় বাড়ছে ঋতুস্রাবের কষ্ট! ব্যথা লাঘব করতে হটব্যাগ যথেষ্ট নয়, সঙ্গী করুন ৫ আসন

29th January 2024 5:57 pm Country News
ঠান্ডায় বাড়ছে ঋতুস্রাবের কষ্ট! ব্যথা লাঘব করতে হটব্যাগ যথেষ্ট নয়, সঙ্গী করুন ৫ আসন


শীতকালে যে কোনও ধরনের ব্যথার দৌরাত্ম্য বাড়ে। আর সেই ব্যথা যদি ঋতুস্রাবজনিত হয়, তা হলে তো কথাই নেই। এমনি সময়ে ঋতুস্রাবের কষ্ট নিয়ন্ত্রণে দিনে দুটো ব্যথা কমানোর ওষুধ খেতে হত, এখন সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে তিন থেকে চারে। চিকিৎসকেরা বলেন, জরায়ুর সঙ্কোচন-প্রসারণে এই ধরনের ব্যথা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে, আবহাওয়ার তাপমাত্রা কমতে থাকলে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়। তাই ব্যথার মাত্রা তীব্র হতে থাকে। অনেকেই রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে গরম জলের সেঁক নেন। তাতে আরাম পাওয়া যায়। কিন্তু সাময়িক। তবে নিয়মিত কয়েকটি আসন করলে কিন্তু এই ধরনের ব্যথা দমন করা যায়।

শীতে ঋতুস্রাবের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে কী কী আসন করবেন?

 

১) উষ্ট্রাসন

হাঁটু গেড়ে বসুন। পিছনের দিকে খানিকটা হেলে হাত দু’টি দিয়ে পায়ের গোড়ালি ধরুন। এর পর মাথা পিছনের দিকে ঝুলিয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে পেটের অংশটা সামনের দিকে এগিয়ে দিন। ডান হাতের বুড়ো আঙুলটি ডান দিকের গোড়ালির ভিতর দিকে রেখে বাকি সব আঙুল বাইরের দিকে রাখুন। বাঁ দিকের ক্ষেত্রেও একই ভাবে রাখুন। পায়ের পাতা মাটিতে রাখুন। স্বাভাবিক ভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ে শবাসন করে শুরুর অবস্থায় ফিরে যান। বার পাঁচেক অভ্যাস করুন।

২) ভুজঙ্গাসন

 

ম্যাটের উপর উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। এ বার হাতের তালু্ মেঝের উপর পাঁজরের দুই পাশে রাখুন। এর পর কোমর থেকে পা পর্যন্ত মাটিতে রেখে হাতের তালুর উপর ভর দিয়ে বাকি শরীরটা ধীরে ধীরে উপরের দিতে তুলুন। এর পর মাথা বেঁকিয়ে উপরের দিকে তাকান। এই ভঙ্গিতে ২০-৩০ সেকেন্ড থাকার পর পূর্বের অবস্থায় ফিরে যান। প্রথম দিকে এই আসন তিন বার করুন। পরবর্তী কালে ৫-৬ বারও করতে পারেন।

 

৩) সেতুবন্ধনাসন

 

হাঁটু ভাঁজ করে মাটিতে শুয়ে পড়ুন। পায়ের পাতা এবং দেহের উপরের অংশে ভর দিয়ে কোমর মাটি থেকে তুলে ধরুন। দুই হাত জোড় করে পিঠের তলায় রাখুন। ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড এই অবস্থায় থাকুন। পরে ৩০ সেকেন্ড পর্যন্ত থাকতে পারেন।

৪) শশঙ্গাসন

 

প্রথমে হাঁটু গেড়ে বসুন। তার পর মাথা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে চেষ্টা করুন কপাল দিয়ে হাঁটু ছুঁতে। এ বার হাত দিয়ে দু’পায়ের গোড়ালি ধরুন। স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস নিন। তার পর ধীরে ধীরে মাথার তালু মাটিতে ছুঁইয়ে দশ বার গুনে ছেড়ে দিন।

 

৫) নাড়ি শোধন প্রাণায়াম

 

সব শেষে, এক নাক দিয়ে অক্সিজেন গ্রহণ করা এবং অন্য নাক দিয়ে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ছাড়া। এই পুরো প্রক্রিয়াটি করতে হবে সুখাসনে বসে। অভ্যাস না থাকলে মাথা ঘুরতে পারে। তাই শুরুতেই খুব বেশি ক্ষণ প্রাণায়াম করার প্রয়োজন নেই।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।