রোগী কিংবা পরিবারের সম্মতি ছাড়া আইসিইউতে ভর্তি নয় হাসপাতালগুলিকে নির্দেশ কেন্দ্রের

3rd January 2024 10:52 am Country News
রোগী কিংবা পরিবারের সম্মতি ছাড়া আইসিইউতে ভর্তি নয় হাসপাতালগুলিকে নির্দেশ কেন্দ্রের


রোগী কিংবা তাঁর পরিবারকে না জানিয়ে আইসিইউতে ভর্তি করা যাবে না। কোনও গুরুতর অসুস্থ রোগীকে তাঁর কিংবা আত্মীয়দের সম্মতি ছাড়া ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিট বা আইসিইউতে ভর্তি অথবা স্থানান্তরিত করা যাবে না। সম্প্রতি এমনই গাইডলাইন প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক।রোগীকে কিংবা পরিবারকে অন্ধকারে রেখে আইসিইউতে ভর্তি কিংবা সাধারণ ওয়ার্ড থেকে রাতারাতি আইসিইউতে স্থানান্তর করা নিয়ে প্রায়ই ভুড়ি ভুড়ি অভিযোগ শোনা যায়। বিশেষ করে বেসরকারি হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধেই দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে অভিযোগ। এমনকী অনেক ক্ষেত্রে এমনও শোনা যায়, প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র মুনাফার কারণে রোগীদের আইসিইউ-তে ভর্তি করিয়েছে। এখানেই শেষ নয়, চিকিত্‍সা সম্ভব নয় এমন কোনও রোগীকে অহেতুক আইসিইউতে রেখে দেওয়ার অভিযোগের নজিরও রয়েছে। আর এই ধরনের সমস্ত অভিযোগের সমাধানেই নয়া নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। 

সম্প্রতি ২৪ জন চিকিত্‍সকের একটি কমিটি গড়া হয়। সেখানেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি গাইডলাইন তৈরি করেছে কেন্দ্রের ওই কমিটি। নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, আইসিইউ-তে ভর্তির নিয়মকানুন। রোগীকে কখন আইসিইউ-তে রাখা যাবে না, একইসঙ্গে ঠিক কোন কোন পরিস্থিতিতে রোগীকে আইসিইউ-তে রাখার প্রয়োজন রয়েছে তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা রয়েছে। 

নির্দেশিকায় রোগীর বেশ কিছু পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একমাত্র সেই পরিস্থিতিতেই রোগীকে আইসিইউ-তে রাখা যাবে। যেমন, রেসপিরেটরি সাপোর্ট অর্থাত্‍ শ্বাসকষ্টজনিত গুরুতর সমস্যা আছে এমন রোগীকে আইসিইউ-তে রাখা যাবে। 

অন্যদিকে, ইনটেনসিভ কেয়ারের জরুরি এমন কোনও গুরুতর রোগ (সিভিয়ার অ্যাকিউট ইলনেস) হলে রোগীকে আইসিইউ-তে রাখা যাবে। এছাড়াও, অস্ত্রোপচারের পর রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে বা অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর কোনও বড় সমস্যা হলে তাকে আইসিইউ-তে স্থানান্তর করা যাবে বলে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে। যদিও কোনও মহামারীর পরিস্থিতিতে আইসিইউতে ভর্তির ক্ষেত্রে চিকিত্‍সকদের নিজস্ব বিবেচনা কাজে লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।