৪০-এর আগেই ঋতুবন্ধের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে শরীরে? কোন অসুখ বাসা বাঁধতে পারে শরীরে?

28th December 2023 7:39 am Country News
৪০-এর আগেই ঋতুবন্ধের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে শরীরে? কোন অসুখ বাসা বাঁধতে পারে শরীরে?


অল্প পরিশ্রম করেই হাঁপিয়ে উঠছেন, ওজন বেড়ে যাচ্ছে, চুল ঝরে যাচ্ছে, মুখের জেল্লা হারিয়ে যাচ্ছে— থাইরয়েডের সমস্যা বাড়লে এমন উপসর্গ দেখা যায় শরীরে। থাইরয়েডের সমস্যা এখন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিসের মতোই দেখা যায় ঘরে ঘরে। গলা এবং ঘাড়ের সংযোগস্থলে থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নির্গত এই হরমোনটি শারীরবৃত্তীয় অনেক কাজই সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করে। থাইরয়েড হরমোনটির অতিরিক্ত ক্ষরণ বা কম ক্ষরণের প্রভাব পড়ে ঋতুবন্ধের উপর। সাধারণত ৪৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যেই মহিলাদের ঋতুবন্ধ হয়। কিন্তু অনেক সময় থাইরয়েডের কারণে সময়ের অনেক আগেই ঋতুবন্ধ হয়ে যেতে পারে।

রক্তে থাইরক্সিন হরমোন ক্ষরণের পরিমাণ কমে যাওয়াকে হাইপোথাইরয়েডিজ়ম বলে। তবে কেবলমাত্র এই হরমোনের ক্ষরণ কমে গেলেই ঋতুবন্ধের সময় এগিয়ে আসে না। এ ক্ষেত্রে দায়ী হল ‘অটো ইমিউন থাইরয়েডাইটিস’। যার ফলে মহিলাদের সময়ের আগেই ঋতুবন্ধের ঝুঁকি বাড়ে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, এ ধরনের থাইরয়েড ডিম্বাশয়ের কোষগুলিকেও নষ্ট করে ফেলে। যার ফলে ডিম্বাশয়ের কার্যকারিতা সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যায়।

 

‘অটো ইমিউন থাইরয়েডাইটিস’ হলে সন্তানধারণের সময় সমস্যা হয় অনেকের ক্ষেত্রে। এ ক্ষেত্রে থাইরয়েড শরীরের একটি অংশ হওয়া সত্ত্বেও এই হরমোনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য শরীর কিছু অ্যান্টিবডি তৈরি করে। এই অ্যান্টিবডি শরীরে বেশ কিছু থাইরয়েড কোষ নষ্ট করে ফেলে। যার ফলে থাইরক্সিন হরমোনের ক্ষরণ কমে যায়। কাদের এই অটো ইমিউন রোগটি হবে, তা আগে থেকে বলা মুশকিল। ৩৫ বছরের পর থেকে মহিলাদের শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রাও কমতে থাকে। সুতরাং যদি এই অটোইমিউন রোগটি হয়, তা হলে ঋতুবন্ধ হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে এই রোগ সঠিক সময়ে ধরা পড়লে বা ঋতুস্রাবের পরিমাণ কিংবা চক্রে কোনও রকম অস্বাভাবিকতা দেখে সচেতন হলে, পরিস্থিতি কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলেই মত চিকিৎসকের।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।